
ড্রেজিং প্রকল্প, টেন্ডার প্রক্রিয়া ও সম্পদ অর্জনকে কেন্দ্র করে প্রকৌশলী আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ব্যয়, টেন্ডার কারসাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, বিভিন্ন নদী খনন ও ড্রেজিং প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় দেখিয়ে শত শত কোটি টাকার বিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি ঘনমিটার মাটি অপসারণের খরচ বাজারদরের তুলনায় বেশি দেখিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হয়। প্রায় ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয়ের একটি অংশ অতিরিক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতার পরিবর্তে পূর্বনির্ধারিত প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, দরপত্রের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হতো যাতে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায়।
এছাড়া ড্রেজার, জলযান ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্রয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ক্রয়, ব্যবহারহীন সরঞ্জাম এবং কাগজে-কলমে প্রকল্প সম্পন্ন দেখানোর মতো অভিযোগ তদন্তের দাবি তুলেছে সংশ্লিষ্ট মহল।
শ্মশানঘাট টার্মিনালসহ কয়েকটি অবকাঠামো প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, বিদ্যমান অবকাঠামো পুরোপুরি ব্যবহার না করেই নতুন প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ, বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়াতেও তার প্রভাব ছিল। কিছু ঠিকাদারের দাবি, বিল অনুমোদন ও ফাইল অগ্রগতির ক্ষেত্রে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন ছাড়া কাজ এগোত না।
এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং বিদেশে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগও উঠেছে প্রকৌশলী আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে। সরকারি চাকরির আয়ে এসব সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা।
তবে প্রকৌশলী আইয়ুব আলী সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে সৎ কর্মকর্তা হিসেবে দাবি করেছেন। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা শুধু একজন ব্যক্তির বিষয় নয়; বরং প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যবস্থায় জবাবদিহির ঘাটতির ইঙ্গিত বহন করে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।