
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে শুক্রবার সকালটা ছিল ভিন্নরকম—শুধু একটি শোভাযাত্রা নয়, যেন জমে ওঠা ক্ষোভের বিস্ফোরণ। জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ১৪ দফা দাবির বাস্তবায়নে রাজপথে নেমে সাংবাদিকরা জানিয়ে দিলেন—অধিকার না পেলে থামবে না লড়াই।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহের উদ্বোধনী শোভাযাত্রা মুহূর্তেই রূপ নেয় প্রতিবাদের অগ্নিস্রোতে। ব্যানার-ফেস্টুনে, স্লোগানে আর কণ্ঠের দৃঢ়তায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার গল্প।
নেতৃবৃন্দের কণ্ঠে ছিল তীব্র বার্তা—গণমাধ্যমকে পূর্ণাঙ্গ শিল্পখাত হিসেবে ঘোষণা, প্রেস কাউন্সিল আধুনিকায়ন, তথ্য কমিশনের মাধ্যমে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়ন এবং সাংবাদিক সুরক্ষা আইন দ্রুত বাস্তবায়ন—এসব আর দাবি নয়, সময়ের কঠিন নির্দেশ।
শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন সংগঠনের সভাপতি আহমেদ আবু জাফর। তার বক্তব্যে ছিল স্পষ্ট ঘোষণা—“ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া অধিকার আদায় সম্ভব নয়।”
সমাবেশে ওমর ফারুক জালাল, সাব্বির আহমেদ রনি, মঞ্জুর হোসেন ঈশা, কবি অশোক ধর, বীথি মোস্তফা ও শেখ শহীদুর রহমান পাভেলসহ নেতৃবৃন্দ একযোগে দাবি জানান—সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে এখনই, নয়তো আরও কঠোর কর্মসূচি আসছে।
আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় ফরিদপুরে হামলার শিকার সাংবাদিক সাজ্জাদের উপস্থিতিতে। তার কণ্ঠে নির্যাতনের বর্ণনা যেন পুরো আয়োজনকে নাড়িয়ে দেয়—চোখে জল, মনে ক্ষোভ, আর ভেতরে জেগে ওঠে প্রতিরোধের আগুন।
আয়োজকরা জানান, ১ থেকে ৭ মে পর্যন্ত দেশজুড়ে পালিত হবে জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দাবি আদায়ের এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে সারাদেশে।
সাংবাদিক সমাজের হুঁশিয়ারি পরিষ্কার—আর সময়ক্ষেপণ নয়। দাবি মানতে হবে, অধিকার দিতে হবে। নইলে কলমই হয়ে উঠবে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধের অস্ত্র।