
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের হাড়াভাঙা হাজীপাড়া এলাকায় চাঁদার দাবিতে ভয়ঙ্কর হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এক কৃষকের বাড়ির সামনে বোমা সদৃশ বস্তু, কাফনের কাপড় ও হত্যার হুমকিসংবলিত চিরকুট রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ইউসুফ আলীর বাড়ির প্রবেশপথে পলিথিনে মোড়ানো একটি বোমা সদৃশ বস্তু, সাদা কাফনের কাপড় এবং একটি চিরকুট রেখে যায়। রোববার (১৭ মে) সকালে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত উদ্ধার করা হয়।
ইউসুফ আলী হাড়াভাঙা গ্রামের ছইমুদ্দিনের ছেলে। একসময় প্রবাসে থাকলেও বর্তমানে তিনি কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চিরকুটে লেখা ছিল—
“আসসালামু আলাইকুম ইউসুফ, তুমি সাবধান। তুই আর তোর ছোট সন্তান মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও। পাঁচ লাখ টাকা রেডি কর।”
ভুক্তভোগী ইউসুফ আলী জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে বাড়ির নারীরা ঝাড়ু দিতে গিয়ে প্রবেশপথে পলিথিন ও কাফনের কাপড়ের সঙ্গে চিরকুট বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে খবর দিলে পুলিশ এসে সেগুলো উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে পরিবারসহ আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছেন বলে তিনি জানান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিবুল ইসলাম বলেন, রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে ভয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এসব রেখে যাওয়া হয়েছে। চিরকুটে ইউসুফ আলী ও তার সন্তানকে হত্যার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক আব্দুল করিম জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বোমা সদৃশ বস্তু, কাফনের কাপড় ও চিরকুট গাংনী থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কারা জড়িত তা শনাক্তে তদন্ত চলছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস বলেন, টেপ দিয়ে মোড়ানো একটি সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামাঞ্চলে নতুন কৌশলে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বাড়ছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার না হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।