ঢাকা | বঙ্গাব্দ

চিকিৎসা নয়, দালালের নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল— আতঙ্কে রোগী ও স্বজনরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 14, 2026 ইং
চিকিৎসা নয়, দালালের নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল— আতঙ্কে রোগী ও স্বজনরা ছবির ক্যাপশন:
ad728


রাজধানীসহ দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সক্রিয় দালাল চক্রের বেপরোয়া দৌরাত্ম্যে চিকিৎসাসেবা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোগী ভাগিয়ে নেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জোরপূর্বক নির্দিষ্ট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো এবং কমিশনভিত্তিক টেস্ট বাণিজ্যের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট—যার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

২০২৬ সালের মে মাসজুড়ে বিভিন্ন অনুসন্ধান ও অভিযোগে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। হাসপাতালের প্রবেশদ্বার, জরুরি বিভাগ ও ওয়ার্ড ঘিরে অবস্থান নেওয়া দালালরা রোগী ও স্বজনদের বিভ্রান্ত করে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছে। বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে রাজধানীর মিরপুর এলাকার গ্রীন স্পেশালাইজড হাসপাতালকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, ‘হাসান’ নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই সিন্ডিকেট। অসহায় রোগী ও স্বজনদের টার্গেট করে প্রতারণা, ভয়ভীতি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে কোটি টাকার অবৈধ নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে দালালদের আটক করলেও মূলহোতারা অধিকাংশ সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। অভিযান শেষ হলেই নতুন কৌশলে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে চক্রটি।

স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম বন্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শনকালে ঘোষণা দেন, হাসপাতালের দালাল ও ট্রলি বাণিজ্য যেকোনো মূল্যে নির্মূল করা হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে কোনো ধরনের দালালি বা রোগী হয়রানি সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে দ্রুত আরও কঠোর অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বহিষ্কৃত হাসান একসময় বিভিন্ন হাসপাতালে মার্কেটিং-সংক্রান্ত কাজে যুক্ত ছিলেন। নানা অভিযোগে চাকরি হারানোর পর তিনি দালাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন এবং বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালকেন্দ্রিক প্রতারণা চক্র পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে ভুল চিকিৎসা ও বিলম্বিত সেবার কারণে তার রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে ওঠে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শুধু মিরপুর নয়, রাজধানীর বড় হাসপাতালগুলোতেও দালাল চক্রের বিস্তার ভয়াবহ আকার নিয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালবিরোধী যৌথ অভিযানে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও শাহবাগ থানা-পুলিশ ৪৯ জনকে আটক করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত এবং ধারাবাহিক অভিযান ছাড়া হাসপাতালকেন্দ্রিক দালাল সিন্ডিকেট নির্মূল সম্ভব নয়। রোগী ও স্বজনদের একটাই দাবি—চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে দালালমুক্ত করে নিরাপদ ও স্বচ্ছ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হোক।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : অনলাইন ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কথা রাখেনি মন্ত্রণালয়: ডিপিডিসির এমডি নিয়োগে ‘বিতর্কিত মানদণ

কথা রাখেনি মন্ত্রণালয়: ডিপিডিসির এমডি নিয়োগে ‘বিতর্কিত মানদণ