ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জেনারেটর চুরি করতে গিয়ে বিএনপি নেতাসহ আটক ৪

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 16, 2026 ইং
জেনারেটর চুরি করতে গিয়ে বিএনপি নেতাসহ আটক ৪ ছবির ক্যাপশন:
ad728
স্কুলমাঠে মধ্যরাতের অভিযান: জেনারেটর চুরি করতে গিয়ে বিএনপি নেতাসহ আটক ৪, প্রশ্নে রাজনৈতিক প্রভাব ও নিরাপত্তা

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে সংরক্ষিত জেনারেটর চুরির চেষ্টাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, সংঘবদ্ধভাবে বিদ্যালয়ের গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে জেনারেটর সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন রাজনৈতিক পরিচয়ধারী একটি দল। ঘটনাস্থল থেকে রমনা থানা বিএনপির এক নেতাসহ চারজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত প্রায় ২টার দিকে একদল ব্যক্তি বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, জেনারেটর কক্ষের দায়িত্বে থাকা দারোয়ানকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কক্ষের তালা ভেঙে জেনারেটরটি একটি পিকআপে তোলার চেষ্টা করা হয়। তথ্য বলছে, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে এবং অভিযুক্তরা আগে থেকেই পরিবহন ব্যবস্থা প্রস্তুত রেখেছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রমনা থানা বিএনপির সদস্য সচিব শামীম হোসেন ওরফে ফর্মা শামীম এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মারফতুল্লাহ সাহেদের নেতৃত্বে লাঠিসোঁটা হাতে কয়েকজন ব্যক্তি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঢুকে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যালয় মাঠের এক কোণে রাখা জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর বিদ্যুৎ সুবিধার জন্য ব্যবহার হয়ে আসছিল। প্রশ্ন উঠছে—জনস্বার্থে ব্যবহৃত একটি সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কি শুধুই চুরি, নাকি এর পেছনে ছিল প্রভাব খাটানোর সংস্কৃতি?

সূত্র জানায়, জেনারেটরটি পিকআপে তোলার সময় এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। স্থানীয়দের বাধার মুখে অভিযুক্তরা জেনারেটর নিয়ে যেতে ব্যর্থ হন। উত্তেজিত জনতা মারফতুল্লাহ সাহেদসহ চারজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জেনারেটরটি জব্দ করে।

অভিযোগের বিষয়ে শামীম হোসেন নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, ঘটনায় মারফতুল্লাহ সাহেদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে দলীয়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—ঘটনার পর দায় অস্বীকার ও দ্রুত বহিষ্কার সিদ্ধান্ত কি দায় এড়ানোর কৌশল, নাকি প্রকৃত তদন্তের আগেই অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা?

রমনা থানা পুলিশ জানায়, আটক চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে জেনারেটর সরানোর উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে অন্য কোনো চক্র জড়িত ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় মাঝরাতে এমন ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি। তাদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে জনসম্পদ দখলের চেষ্টা নতুন নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের একটি প্রবণতার অংশ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনিক নজরদারি দুর্বল হলে স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী সুযোগ নেয়। তথ্য বলছে, রাজধানীতে সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ আগেও উঠেছে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তদন্ত দীর্ঘসূত্রতায় হারিয়ে যায়।

এ ঘটনায় এখন বড় প্রশ্ন—জনতার হাতে হাতেনাতে ধরা পড়ার পরও কি দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে, নাকি রাজনৈতিক প্রভাবের চাপে তদন্তের গতি থেমে যাবে? স্থানীয়রা বলছেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়বে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : অনলাইন ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সংস্কার কমিশনে ২২ দফা সংস্কার প্রস্তাবনা দিলো মুক্ত গণমাধ্য

সংস্কার কমিশনে ২২ দফা সংস্কার প্রস্তাবনা দিলো মুক্ত গণমাধ্য