রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
হাট ও বাজারের দোকান বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার ১২ নম্বর সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের জবাব সন্তোষজনক না হলে তাকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রামনগর হাট ও বাজারের দোকান বরাদ্দকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যান আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর গত ১ জুন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, তদন্তে প্রমাণিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন প্রশাসনিক ও আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। তার কর্মকাণ্ড ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং জনস্বার্থের পরিপন্থি হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
একইসঙ্গে পৃথক একটি নোটিশে আশিকুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪) ধারার আওতায় সংঘটিত অপরাধের কারণে তাকে কেন স্থায়ীভাবে পদচ্যুত করা হবে না, সে বিষয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ওই জবাব স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, একটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি সম্পদ বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় কতটা অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগ চেয়ারম্যান আশিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে উঠেছে।