প্রেমের টানে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে প্রতারণার শিকার হয়েছেন ভারতের এক তরুণী। পরে আইনি জটিলতায় তিনি এখন চট্টগ্রামের সরকারি সেফ হোমে রয়েছেন।
জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার বাসিন্দা মহিমা মোল্লার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকার রহিমের। ভার্চুয়াল সেই পরিচয় ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। প্রায় দুই বছরের সম্পর্কের পর পরিবারকে না জানিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে এসে রহিমকে বিয়ে করেন মহিমা।
বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, রহিম আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি ওই সংসার ছেড়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করেন।
কিন্তু বৈধ কাগজপত্র না থাকায় দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানায় আত্মসমর্পণ করলে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।
কারাভোগ শেষে মুক্তি পেলেও দেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়। এ সময় জিম্মায় নেওয়ার পর তার ওপর শারীরিক নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগও ওঠে।
পরে মানবাধিকার আইনজীবীর সহায়তায় বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে আদালত তাকে ভারতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামের ফরহাদাবাদের একটি সরকারি সেফ হোমে রাখার নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী মহিমা মোল্লা বলেন, “সত্যটা আগে জানলে আমি কখনোই দেশ ছাড়তাম না। এখন শুধু আমার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চাই।”
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা হয়। বর্তমানে তিনি সেফ হোমে রয়েছেন এবং তাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।