ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভুয়া বিল, বকেয়া ভাতা ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা—চাপের মুখে সুপার জয়নুল আবেদীন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 17, 2026 ইং
ভুয়া বিল, বকেয়া ভাতা ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা—চাপের মুখে সুপার জয়নুল আবেদীন ছবির ক্যাপশন:
ad728
কুড়িগ্রামের প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) এখন অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগে কার্যত বিপর্যস্ত অবস্থায়। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল উত্তোলন, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং অবহেলায় অবকাঠামোগত অবনতি—সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সুপারিনটেনডেন্ট জয়নুল আবেদীন।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একাধিক অসঙ্গতি দেখা দিতে শুরু করে। অডিট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের নামে বিভিন্ন খাতে সরকারি অর্থ অপচয় ও আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে নির্ধারিত বাসভবনে না থেকেও গেস্ট রুমে অবস্থান করে বাড়িভাড়া বাবদ প্রায় ৪ লাখ ৩২ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অডিট নথি বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, টিচিং লার্নিং মেটেরিয়ালস, মনোহরি সামগ্রী, ভুয়া ভ্রমণ বিল, সরঞ্জাম ক্রয়, তথ্যপুস্তক, ম্যাগাজিন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খাতে ধাপে ধাপে অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে প্রায় ১১ লাখ টাকার অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রশিক্ষণার্থীদের ডিএ ভাতা ও খাবার বাবদ বরাদ্দ অর্থ নিয়েও গরমিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে পিটিআই ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ ভয়াবহভাবে অবনতি হয়েছে। ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে মাঠ ও ভবনের চারপাশ। মশা-পোকামাকড়ের উপদ্রবে আবাসিক প্রশিক্ষণার্থী ও পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রধান ফটক দীর্ঘ সময় খোলা থাকায় বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত চলছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, প্রতিষ্ঠানে কার্যকর প্রশাসনিক তদারকি নেই। খেলার সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে পড়ে থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বহিরাগতদের উপস্থিতিতে শিক্ষা পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কর্তৃপক্ষ উদাসীন ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রশিক্ষণার্থী জানিয়েছেন, নির্ধারিত ভাতা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে। প্রশিক্ষণের সময় নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে এবং পুরোনো ব্যানার ব্যবহার করে নতুন বিল উত্তোলনের ঘটনাও তারা দেখেছেন। বাইরে থেকে আসা এক প্রশিক্ষক বলেন, হোস্টেলের পরিবেশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে—ভাঙা খাট, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দুর্গন্ধের কারণে অনেককে বাইরে থাকতে হয়েছে।

অডিটর জয়ন্ত জানিয়েছেন, কুড়িগ্রাম পিটিআইয়ে আর্থিক অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে সুপারিনটেনডেন্ট জয়নুল আবেদীন বলেন, অডিট টিম যেসব অসঙ্গতি পেয়েছে তার জবাব দেওয়া হয়েছে এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, গেস্ট রুমে অবস্থান করার বিষয়টি সত্য হলেও কোনো আর্থিক অনিয়ম হয়নি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রশিক্ষণার্থীদের বকেয়া ভাতা পরিশোধ করা হবে।

তবে শিক্ষা প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—যেখানে শিক্ষক তৈরির প্রতিষ্ঠানই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আক্রান্ত, সেখানে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন কতটা বাস্তবসম্মত? সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে সরকারি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : অনলাইন ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
৭ কোটি টাকার খাল খনন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

৭ কোটি টাকার খাল খনন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ