ঢাকা | বঙ্গাব্দ

স্বাক্ষর জালিয়াতিতে ফেঁসে অপসারণের মুখে ভূমি কর্মকর্তা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 14, 2026 ইং
স্বাক্ষর জালিয়াতিতে ফেঁসে অপসারণের মুখে ভূমি কর্মকর্তা ছবির ক্যাপশন:
ad728
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের পর অবশেষে চাকরি হারালেন সাবেক সার্টিফিকেট সহকারী মো. জিয়া শাহ সুলতান। সরকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে চূড়ান্ত আদেশ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করেছে প্রশাসন।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী (এনডিসি) স্বাক্ষরিত ১২ মে জারি করা অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রশাসনিক সূত্র বলছে, অভিযোগগুলো শুধু অনিয়মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং সরকারি সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ও তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্ত নথি অনুযায়ী, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত অবস্থায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামছুজ্জামান আসিফ-এর স্বাক্ষর জাল করে একটি মিসকেসের চূড়ান্ত আদেশ জারি করেন। একই সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, ফাইল আটকে রাখা এবং সরকারি কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগও তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জামালপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা (নং–১০/২০২৫) রুজু করা হয়। প্রাথমিক শুনানিতে অভিযুক্তের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় ময়মনসিংহ স্থানীয় সরকার বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের উপপরিচালক বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস-কে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে গত ১০ মার্চ ২০২৬ জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে, যা সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

তদন্ত প্রতিবেদন ও অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে ‘চাকরি হতে অপসারণ’—সরকারি চাকরির সর্বোচ্চ শাস্তিগুলোর একটি—প্রদান করা হয়। আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তিনি কোনো সরকারি আর্থিক সুবিধা বা বকেয়া পাওনার অধিকারী হবেন না।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন জানান, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে বরখাস্তের আদেশ পাওয়া গেছে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

অভিযুক্ত মো. জিয়া শাহ সুলতানের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সময় লাগা সরকারি তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে। ভূমি সংক্রান্ত সেবায় দুর্নীতি ও জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি এবং ডিজিটাল যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার না হলে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই যাবে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : অনলাইন ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জ্বালানি সংকটে অটোরিকশা ভালো সাপোর্ট দিচ্ছে: প্রধানমন্ত্রীর

জ্বালানি সংকটে অটোরিকশা ভালো সাপোর্ট দিচ্ছে: প্রধানমন্ত্রীর