ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 7, 2026 ইং
ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:
ad728
ক্রাইম স্ক্যানার 
ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জালিয়াতি, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসা এই কর্মকর্তা চাকরি জীবনে গড়ে তুলেছেন কয়েক কোটি টাকার সম্পদের সাম্রাজ্য।

অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে ২০০৪ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকালে দলিল সংক্রান্ত অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য, জাল দলিল সৃষ্টি, ভুয়া নামজারি ও জমাখারিজ এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন নুর নেওয়াজ। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং আদালতেও একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শেরপুরে জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি পূর্ববর্তী জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রারদের সিল-স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন অফিসিয়াল নথি প্রস্তুত করেন। দলিল লেখক লাইসেন্স, নকল নবিস নিয়োগ, ভুয়া কাজীর নিয়োগপত্র, লাইসেন্স নবায়ন, আবেদন গ্রহণের রিসিভ কপিসহ বিভিন্ন সরকারি নথি জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া বিভিন্ন দলিলের খতিয়ান, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও শ্রেণি পরিবর্তন, দলিলের মূল তথ্য বিকৃত করা, রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে দলিলের লেখা মুছে নতুন তথ্য সংযোজন এবং ভুয়া দলিল তৈরি করে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

তথ্য অনুযায়ী, নুর নেওয়াজ ও তার পরিবারের নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় শত শত  শতক জমি, চারটি ফ্ল্যাট, একটি রাইস মিল, একটি দোতলা বাড়ি এবং একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। এছাড়া ব্যাংকে কয়েক কোটি টাকার সঞ্চয়পত্রসহ নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, জামালপুর জেলা সদরে তার নামে প্রায় ৮৭০ শতক জমি রয়েছে। ময়মনসিংহ শহরের ৪ নম্বর মোহাম্মদ আলী রোডের রোজ গার্ডেনে স্ত্রী আঞ্জুমান আরা মুক্তা ও নুর নেওয়াজের নামে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। একই শহরের নওমহল ও পণ্ডিতবাড়ী এলাকায় রয়েছে আরও দুটি ফ্ল্যাট। ময়মনসিংহের তোলাদিয়া মৌজায় রয়েছে ১৩ শতক জমি। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় স্ত্রী আঞ্জুমান আরা মুক্তার নামে একটি রাইস মিল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীরা দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে প্রভাবশালী মহল ও সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। ফলে অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।

সচেতন মহলের মতে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দুর্নীতি, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রাষ্ট্রীয় সেবার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে। তারা নুর নেওয়াজের সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি দমন ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 অভিযোগের বিষয় ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি,

ভোলার বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সম্পদের হিসাব যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : অনলাইন ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ

অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ