অভিযোগের পাহাড়ে সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, নথি যাচাই করছে মন্ত্রণালয়
সাভার, ২৭ এপ্রিল: সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে আইন ও বিচার বিভাগ। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সরেজমিন পরিদর্শন করে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে দলিল নিবন্ধনে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং সরকারি ফি’র বাইরে ‘টেবিল মানি’ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়।
রোববার আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাঈনউদ্দিন কাদির সরেজমিনে অফিস পরিদর্শন করেন এবং সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এর আগে ১৬ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর মন্ত্রণালয় বিষয়টি আমলে নেয়।
সাক্ষ্যে দলিল লেখক কাজী ফরহাদ হোসেন অভিযোগ করেন, নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ না দিলে দলিলে ত্রুটি দেখিয়ে স্বাক্ষর আটকে রাখা হয়। একই অভিযোগ করেন শোভাপুর গ্রামের আবুল হোসেন। তিনি বলেন, অভিযোগ জানাতে গেলে তাকে অশোভন আচরণের শিকার হতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি রেজিস্ট্রেশনে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও দালালচক্রের মাধ্যমে সেবা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট দালালের মাধ্যমে কাজ না করলে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তিতে পড়েন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সাভার দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তারা দাবি করেন, পাওয়ার অব অ্যাটর্নিসহ বিভিন্ন দলিলে বিপুল অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. মাঈনউদ্দিন কাদির জানান, অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে একাধিক সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে নির্দেশনা রয়েছে।
তদন্ত চলাকালে অফিসে চাপা উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।