ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ঢাকার বাসাবাড়িতেই মাদক কারখানা, একাধিক গোপন ল্যাবের সন্ধান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 9, 2026 ইং
ঢাকার বাসাবাড়িতেই মাদক কারখানা, একাধিক গোপন ল্যাবের সন্ধান ছবির ক্যাপশন:
ad728


রাজধানী ঢাকা ও আশপাশে গোপনে স্থাপিত ‘মিনি ল্যাব’ ব্যবহার করে নতুন ও ভয়ংকর ধরনের মাদক তৈরি করছে একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র—এমন অভিযোগ উঠছে। তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক অভিযানে কেটামিন, কুশ, ইয়াবা এবং ভেজাল মদ তৈরির অন্তত চারটি পৃথক চক্রের সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

সূত্র জানায়, এসব চক্র আধুনিক প্রযুক্তি, ডার্ক ওয়েব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে দেশ-বিদেশে মাদক তৈরি ও পাচারের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।

তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চ রাজধানীর উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি গোপন মাদক উৎপাদন ল্যাবের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে চিকিৎসায় ব্যবহৃত তরল কেটামিন রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পাউডার আকারে রূপান্তর করা হচ্ছিল। অভিযানে তিনজন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ কেটামিন ও মাদক তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, অস্ত্রোপচারের আগে অজ্ঞান করার জন্য ব্যবহৃত কেটামিন চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও চক্রটি এটিকে কোকেন সদৃশ পাউডারে রূপান্তর করে মাদক হিসেবে বাজারজাত করছিল। ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার নেওয়া হতো এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করে কুরিয়ার সার্ভিসে মালয়েশিয়া, দুবাই ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশে এসব মাদক পাচার করা হতো।

অভিযোগ উঠছে, রাজধানীর টঙ্গীতে ইয়াবা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে নতুন ধরনের ইয়াবা তৈরির কারখানাও পাওয়া গেছে। সেখানে তোহিদুজ্জামান ওরফে শিমুল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, একটি আয়ুর্বেদিক ল্যাবরেটরিতে কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি ইয়াবা উৎপাদন শুরু করেন।

সূত্র জানায়, ওয়ারী এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী তৌসিফ হাসান নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে উন্নত জাতের মারিজুয়ানা ‘কুশ’ চাষের গোপন ল্যাব পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অনলাইনে নির্দেশনা দিয়ে ঢাকার বাসায় স্থাপিত ল্যাব পরিচালনা করতেন।

তথ্য বলছে, বসুন্ধরা ও ভাটারা এলাকায় পৃথক অভিযানে দুটি ভেজাল মদ তৈরির কারখানারও সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে বিদেশি মদের বোতলে রাসায়নিক মিশিয়ে ভেজাল মদ তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছিল।

প্রশ্ন উঠছে—আধুনিক প্রযুক্তি, ডার্ক ওয়েব ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এ ধরনের সংগঠিত মাদক উৎপাদন ও পাচার ব্যবস্থা কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর ভেতরে সক্রিয় ছিল, এবং এর পেছনে আরও বড় কোনো সিন্ডিকেট জড়িত কি না।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : অনলাইন ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার